আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃমহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু।
সাত-সাতশ নরক-জ্বালা জ্বলে মম ললাটে।
মম ধূম কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ, হাহাকার আর মর্ত্যে সাহারা-গোবি ছাপ আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।
উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতায় যুগপৎ দুর্মর দ্রোহের বাণী উচ্চারিত হওয়ায় বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সগর্বে নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসনক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেন। কবি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল প্রশমিত না হওয়া। পর্যন্ত তিনি শান্ত হবেন না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি নিজেকে ধ্বংসের প্রতীক শনি দেবের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে তাঁর বারবার আবির্ভাব মূলত দুর্মর দ্রোহের প্রতীক হিসেবে। এবারও এসেছেন সেই চেতনা বুকে ধারণ করেই। তিনি নিজেকে সৃষ্টিপাপের অনুতাপ, সাহারা-গোবি হাপ, অশিব তিত্ব অভিশাপ বলে মূলত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রবল বিদ্রোহী চরিত্ররূপে আবির্ভূত হয়েছেন। একইভাবে 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও পুরাণোক্ত বিভিন্ন চরিত্রের সমন্বয়ে কবি মূলত দুর্মর দ্রোহের বাণী প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে যেমন কবি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশে তৎপর, তেমনি রুদ্ররূপ দেখা যায় 'বিদ্রোহী' কবিতাতেও। উভয়স্থানেই কবিকণ্ঠ মূলত দুর্মর দ্রোহের কণ্ঠ। 'বিদ্রোহী' কবিতায় যেমন প্রকাশ পেয়েছে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে, কবির তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্রোহ; তেমনি আলোচ্য কবিতাংশেও ধ্বনিত হয়েছে কবির বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ। তাই বলা যায় যে, "উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত"- উক্তিটি যথার্থ।
বল বীর -
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি' আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর –
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
খোদার আসন 'আরশ' ছেদিয়া,
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর –
আমি চির উন্নত শির! ...
মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন !
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি চির-বিদ্রোহী বীর
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?